Special Green tea

Add your review

Add to wishlistAdded to wishlistRemoved from wishlist 0

আজকাল চা পান করাটা আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে রং চা, দুধ চা বা সবুজ চা হোক না কেনই। জীবনের কর্ম ব্যস্ততায় এক কাপ চা যেন প্রশান্তি এনে দেয়। চা পান কমবেশি আমরা সবাই করে থাকি। কিন্তু চা এর উপকারিতা সম্পর্কে কমই জানি আমরা। সবুজ চা বা গ্রীন টি এর কিছু চমকপ্রদ উপকারিতা সম্পর্কে এখানে আলোচনা। স্বাদের জন্যে নয়। গ্রীন টি স্বাস্থ্যের জন্যেও ভালো এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

স্পেশাল গ্রীন টি বলতে আমরা অনেকে এর সবুজ রংকে বুঝি। কিন্তু আসলেই তা নয়। সাধারণ বা রেগুলার গ্রীন টির ক্ষেত্রে যেমন অনেক কাটিং করে আকার দেওয়া হয়, তবে স্পেশাল গ্রীন টির ক্ষেত্রে বেশিরভাগই তা করা হয় না। এটি প্রক্রিয়াজাতকরণের ধরন সাধারণ গ্রীন টির চেয়ে আলাদা। এক্ষেত্রে ছোট ছোট আস্ত পাতাই থেকে যায়।

আমরা দুই ধরনের গ্রীন টি বা সবুজ চা নিয়ে আলোচনা করবো (i) Green tea regular/normal (কাটিং প্রসেস) (ii) Special Green tea (সম্পূর্ণ পাতা)। গ্রীন টি-এর প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে সাধারণত চা বাগান থেকে দুটি পাতা একটি কুঁড়ি সংগ্রহ করা হয়।

(ii) Special Green tea (সম্পূর্ণ পাতা):-
এখানে স্পেশাল গ্রীন টি এর সাথে রেগুলার গ্রীন টি এর পার্থক্য ও উপকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
আমাদের গ্রীন টি থেকে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া সম্ভব হয় না। কারণ আমরা গরম পানিতে গ্রীন টি এর টি-ব্যাগ কিছুক্ষণ চুবিয়ে রেখেই তা পান করি। গ্রীন টি এর টি-ব্যাগ ব্যাবহার করাটা অনেক সহজ। গ্রীন টি এর পাতা স্বাদ, গন্ধ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। কেন গ্রীন টি এর টি-ব্যাগ এর পরিবর্তে স্পেশাল গ্রীন টি এর পাতা ব্যবহার করা উপকারী তা জেনেনেওয়া যাক।
ক্যাফেইন কনটেন্টঃ
নরমাল গ্রীন টি এর পাতা প্যাকেটজাত করার জন্য বা টি-ব্যাগে নেয়ার জন্য ছোট ছোট করে কাটা হয়। এই প্রক্রিয়ায় চা পাতা কিছুটা ক্যাফেইন হারায়। তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্পেশাল গ্রীন টি বা আলগা চা পাতায় ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি থাকে। অর্গানিক গ্রীন টি এর পাতায় খুব কম রাসায়নিক ও কীটনাশক থাকে।
স্বাদঃ
নরমাল গ্রীন টি এর টি-ব্যাগের চাইতে স্পেশাল গ্রীন টি এর পাতায় প্রসেসিং করা হয় কম। তাই নরমাল গ্রীন টি এর টি-ব্যাগের চেয়ে স্পেশাল গ্রীন টি এর পাতায় স্বাদ অক্ষুন্ন থাকে বেশি। তবে সময়ের সাথে সাথে আলগা চা পাতার স্বাদও খারাপ হতে শুরু করে। মেশিনে কাটা পাতার চেয়ে হাতে কাটা পাতা কেনার চেষ্টা করুন।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টঃ
কাটিং গ্রীন টি তে উপস্থিত ক্যাটেচিন সময়ের সাথে সাথে কমতে থাকে। স্পেশাল গ্রীন টি এর আলগা পাতার চেয়ে গ্রীন টি এর টি-ব্যাগ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় বলে এর ক্যাটেচিনের পরিমাণ কমতে থাকে। এছাড়াও আস্ত গ্রীন টি এর পাতায় ক্যাটেচিনের ঘনত্ব বেশি থাকে। টি-ব্যাগ ও কিছুটা ক্যাটেচিন শোষণ করে নেয়। তাই বলা যায় যে, আলগা গ্রীন টি এর পাতা থেকে আপনি গ্রীন টি এর টি-ব্যাগের চেয়ে বেশি ক্যাটেচিন পেতে পারেন।
পাতার বয়সঃ
স্পেশাল গ্রীন টি এর মানের উপর বিভিন্ন বিষয় প্রভাব ফেলে। সবচেয়ে ভালো মানের পাতাগুলো চা গাছের উপরের দিকে থাকে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, তরুণ গ্রীন টি এর অঙ্কুরে উচ্চমাত্রার থিয়ানিন এবং EGCG থাকে। থিয়ানিন প্রশান্ত হতে এবং মনোযোগী হতে সাহায্য করে। ইজিসিজি হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই এটা বলা বাহুল্য যে, গ্রীন টি এর টি-ব্যাগের চেয়ে স্পেশাল গ্রীন টি এর আলগা পাতায় উচ্চমানের পুষ্টিগুণ থাকে।
স্পেশাল গ্রীন টি বা আলগা পাতা দিয়ে চা তৈরি করতে হয়তো আপনার একটু সময় বেশি লাগবে কিন্তু আপনি এর থেকে অনেক বেশি স্বাদ এবং অনেক বেশি ঔষধি উপকারিতা পেতে পারেন। নরমাল গ্রীন টি এর টি-ব্যাগ একটু সহজলভ্য হয় স্পেশাল গ্রীন টি এর পাতার চেয়ে। তবে আজকাল অর্গানিক গ্রীন টি অনেক স্টোরেই কিনতে পাওয়া যায়।
গ্রীন টি’ র উপকারিতা অনেক। এটা ওজন কমাতে সাহায্য করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, গলার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে, মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে। এমনকি কেউ যদি ধূমপান ছাড়তে চান, তবে তা ছাড়তেও গ্রীন টি সাহায্য করবে। সব কিছু ছাপিয়ে গ্রীন টি বার্ধক্য এবং কপালের বলিরেখা থেকে ত্বককে রক্ষা করবে।
গ্রীন টি এর স্বাস্থ্য উপকারিতা নিম্নে দেয়া হলঃ-
ওজন কমাতেঃ
সবুজ চা বিপাক বৃদ্ধি করে। গ্রীন টি পলিফেনল শরীরের ফ্যাট অক্সিডেশন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে খাবার থেকে ক্যালরি তৈরি প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। ফলে দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে না। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, এটি এক দিনে ৭০ ক্যালরি পর্যন্ত ফ্যাট বার্ন করে। তার মানে নিয়মিত গ্রীন টি পানের মাধ্যমে বছরে ৭ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতেঃ
সবুজ চা রক্তের গ্লুকোজ এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে, যা প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে গ্রীন টি। তাই গ্রীন টি ডায়াবেটিস নিয়ন্তণে অনেক সহায়ক।
ফারটিলাইজার হিসেবেঃ
গ্রীন টি অনেক উপকারি। এই সবুজ চায়ের পাতা পানিতে কয়েকদিন ভিজিয়ে রেখে তারপর ছেঁকে গাছের গোড়ায় সেই পানি দিলে তা ফারটিলাইজার হিসেবে কাজ করে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেঃ
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, গ্রীন টি শরীরের প্রতিটি শিরায় কাজ করে। ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। তাই কোনো কারণে রক্ত চাপে পরিবর্তন হলেও কোন ধরনের ক্ষতি করে না। তাছাড়া গ্রীন টি রক্ত জমাট বাধতে দেয় না। ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভবনা অনেক কমে যায়।
খাদ্যনালীর ক্যান্সার রোধেঃ
গ্রীন টি খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও ভালো কোষগুলোর কোনো ক্ষতি না করে সার্বিকভাবে ক্যান্সারের কোষ নির্মূল করে। গ্রীন টিতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ভিটামিন সি এর চাইতে ১০০ গুন ও ভিটামিন ই এর চাইতে ২৪ গুন ভালো। গ্রীন টি বিশেষ ভাবে ত্বকের ও খাদ্যনালীর ক্যান্সারের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও এটি ত্বকে বলিরেখা পড়াকে রোধ করে।
কোলেস্টেরল বাড়াতেঃ
গ্রীন টি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণও বাড়াতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ করতেঃ
গ্রীন টি দেহের জন্য অনেক উপকারি। এটি দেহের সকল রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। সবুজ চা দেহকোষকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে, ফলে বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
দাঁত ভালো রাখতেঃ
গ্রীন টি’র “ক্যাটেকাইন” নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুখের ভিতরের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে। যা গলার ইনফেকশনসহ দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা কমিয়ে আনে। এছাড়াও এটি ওরাল ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করে ডেন্টাল ক্যাভিটিস প্রতিরোধ করে। গ্রীন টি মাউথওয়াশ হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। এতে আছে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল প্রপার্টিস এবং কোনো এলকোহল নেই। যা নিয়মিত মাউথওয়াশে থাকতে পারে। নিয়মিত গ্রীন টি পান মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
রক্ত চাপ কমাতেঃ
গ্রীন টি রক্তচাপের ঝুকি কম করতে অনেক সহায়ক। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়মিত গ্রীন টি পান করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে যাবে। সুতরাং উচ্চ রক্ত চাপের ক্ষেত্রে গ্রীন টি অনেক উপকারি।
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেঃ
গ্রীন টি স্মৃতি শক্তির উন্নতি ঘটাতে সহায়ক। গ্রীন টি শরীরের বিভিন্ন অংশকে ভেতর থেকে সতেজ করে তোলে এবং সেই সাথে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। যদিও স্মৃতি বিনষ্টকারী রোগ আলঝেইমার্স এর কোন চিকিৎসা নেই, কিন্তু এটি আলঝেইমার্স এর জন্য দায়ী এসিটাইলকোলিন এর মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে অবস্থার কিছুটা উন্নয়ন ঘটাতে পারে।
ডিপ্রেশন দূর করতেঃ
প্রকৃতিকভাবেই “থিয়ানিন” নামের অ্যামাইনো এসিড চা পাতায় পাওয়া যায়। এই উপাদান দুশ্চিন্তা ও হতাশা কমাতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত গ্রীন টি পান করলে টেনশন থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
অ্যান্টি-ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়া বিরোধীঃ
সবুজ চায়ের ফলে ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত সব রকমের রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। এটা ক্যানসারের ধ্বংসাত্মক সেলকে ধ্বংস করে। চায়ের ক্যাটেকাইন উপাদান অ্যান্টি ভাইরাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে বেশ উপকারি। গবেষণায় দেখা গেছে অনেক রোগ বিস্তারেও বাধা দেয় গ্রীন টি।
ত্বকের যত্নেঃ
গ্রীন টি তে রয়েছে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বার্ধক্যের গতিকে ধীর করে এবং আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে। চোখের ফোলা ভাব এবং চোখের নীচের ডার্ক সার্কেল কমাতে ব্যবহার করা গ্রীন টি এর দুটি ব্যাগ ২ ঘন্টা ফ্রীজ এ রেখে, ঠান্ডা করে চোখ বন্ধ করে এর উপর ১০ মিনিট রাখতে হবে। তাছাড়া এটি ত্বকের রোদে পোড়াভাব কমাতে ও ব্ল্যাক হেডস দূর করতে সাহায্য করে। গ্রীন টি খুব ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে। মেডিকেল গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, গ্রীন টি ব্রণের সমস্যা ট্রিটমেন্টের জন্য খুবই উপকারি। এটি ত্বকে কোন রকম ইরিটেশন বা ড্রাইনেস তৈরী করা ছাড়াই ব্রণ নির্মূল করে থাকে।
অনেকে গ্রীন টি খেতে পারেন না, তার অন্যতম কারণ এর স্বাদ। তাই যারা একেবারেই গ্রীন টি খেতে পারেন না তাঁদের জন্য রয়েছে কিছু টিপস যা স্বাদের সাথে স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সাহায্য করবে।
যারা ফ্রুট স্মুদি কিংবা জুস খেতে ভালোবাসেন তারা এর সাথে দুই টেবিল চামচ গ্রীন টি পাউডার মিশিয়ে নিতে পারেন। প্রতিদিন সকালের নাস্তায় এটি খেলে উপকার পাওয়া যাবে।
বাসায় গ্রীল কিংবা বারবিকিউ করা হলে মাংসের জন্য তৈরি মশলার সাথে গ্রীন টি পাউডার মিশিয়ে দিলে। এটি মাংসের স্বাদে ভিন্নতা তো আনবেই স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও দারুণ ভূমিকা রাখবে।
পুডিং খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। পুডিং বানানোর সময় কিংবা কেক এর বেকিং এর সময় অল্প একটু গ্রীন টি পাউডার যোগ করে ভিন্ন ধরনের এক স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন।
সবশেষে মজার এক রেসিপি দিয়ে শেষ করি। আপনি যদি আইসক্রীম বানাতে এবং খেতে ভালোবাসেন তবে বিভিন্ন ফ্লেভার এর সাথে গ্রীন টি ফ্লেভারের আইসক্রীম বানিয়ে দেখবেন। স্বাদ, স্বাস্থ্য কোন ব্যাপারেই আর সমস্যা করবে না।
*** চা বা গ্রীন টি জাতীয় পানীয়ের অনেক উপকারিতা বিদ্যমান থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে একটু মেনে চলতে হয়। যেমন চা হোক বা গ্রীন টি কোনটাই অতিরিক্ত পান করা ভাল না। আর খাবার খাওয়ার আগে বা পরে গ্রীন টি খাওয়া ঠিক নয়। এতে হজমের সমস্যা দেখা দেয়। আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে তো গ্রীন টি একদমই খাওয়া ভাল না। এতে করে আরামের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। সুতরাং দেখবেন চা বা গ্রীন টিতে যেমন স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে, কিছু নিয়মও মেনে খাওয়া উচিত। তাহলে দেহের ক্ষেত্রে উপকার পাবেন।***

User Reviews

0.0 out of 5
0
0
0
0
0
Write a review

There are no reviews yet.

Be the first to review “Special Green tea”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Special Green tea
Special Green tea
Sobar Dorkar
Logo
Enable registration in settings - general